প্রকাশিত: Sun, Feb 26, 2023 8:18 AM আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 3:27 PM
নিমক-হারাম তৈরির প্রকল্প বিষয়ে প্রথম কিস্তি
আর রাজী: আমরা কি চাই আমাদের এই দেশের সংখ্যাগরীষ্ঠ সাধারণ মানুষ, যারা ন্যূনতম লেখাপড়া শেখার সুযোগ পায়নি, তারা আর তাদের সন্তানরা পড়তে, লিখতে পারুক? আমরা কি চাই এই পড়তে-লিখতে অল্পজানা মানুষগুলো এবং তাদের সন্তানরা আর একটু বেশি লেখপড়া, অন্তত উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়াটা বুঝেশুনে পড়ুক? আমরা কি চাই এই যে কম বা মাঝারি স্তর পর্যন্ত শিক্ষিত যারা তাদের অধিকার এই রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হোক? তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আর সবার সমান হয়ে উঠুক? তারা বুঝতে পারুক, ব্যাংকের কাগজপত্র, তার ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম, নানান রকম চুক্তিপত্র থেকে শুরু করে কল-কব্জা-যন্ত্রপাতি সারানোর ম্যানুয়াল অবধি? যদি চাই এদেশে শিক্ষার বিস্তার ঘটুক, এই দেশের সাধারণ মানুষের বিদ্যা-বুদ্ধি-জ্ঞানের ক্রমবিকাশ ঘটুক, তারা বুঝে নিক কী তাদের অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদি ইত্যাদি তাহলে তাদের পড়ালেখাটা কোন ভাষায় হওয়া সবচে সুবিধার হবে, সময় ও অর্থ সাশ্রয়ী হবে? সংস্কৃত?
সেন শাসকদের পালিত দক্ষিণী পণ্ডিতরা এভূখণ্ডের মানুষকে সংস্কৃত শেখাতে কম চেষ্টা করেনি, কিন্তু পারেনি। আরবি-ফার্সি-উর্দু শেখার বা শেখানোর চেষ্টা কি হয়নি এদেশে? হয়েছে। এই দেশের অনেক মানুষ জাগতিক গুরুত্ব দিয়ে বিগত আড়াইশ বছর ধরে ইংরেজি ভাষা শেখার কসরত করছে, তাদের কত শতাংশ, কতোটুকু ইংরেজি শিখেছে আমরা জানি। তাতে এই দেশের কতো মঙ্গল হয়েছে, শিক্ষার বিস্তার কতোখানি হয়েছে তাও কারও অজানা নয়। জগতের সবাই জেনেছে, মেনেছে যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার সবচে ভাল উপায় যার যা ভাষা, সেই ভাষাতেই তার লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা। যার যার ভাষাতেই তার তার অধিকারগুলো বুঝিয়ে দেওয়া, তার ভাষাতেই তার সঙ্গে সব রকম আলাপ-আলোচনা করা। আর এই কার্যক্রম চালানোর জন্য দরকার শিক্ষিত সেইসব মানুষজন যারা সাধারণ মানুষের ভাষাটা ভালভাবে জানবে, সাধারণ মানুষের ভাষায় তার অর্জিত বিদ্যা সাধারণ্যে বিতরণে সক্ষম হয়ে উঠবে।
লেখাপড়া জানা এই মানুষগুলো তৈরির জন্যই এই সংখ্যাগরীষ্ঠ মানুষ খেয়ে না খেয়ে এই গরীব দেশেও ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ তৈরি করেছে, বিশ্ববিদ্যালগুলো প্রতিপালনের জন্য সাধ্যের অতীত বিপুল ব্যয় করছে। অথচ কী নমকহারামি চলছে দেখেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে সংখ্যা গরীষ্ঠের ভাষা বাংলায় না, ইংরেজিতে বিদ্যাচর্চা। শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে এমন এক ভাষায় যা দিয়ে সে তার দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না, অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে বিদ্যা শিখেছে বলে জানবে তা প্রয়োগ করতে পারবে না, যাদের টাকায় পড়ছে তাদেরই কোনো কাজে আসবে না। ফলত বিদ্যার গুমর ছাড়া তার আর কিছুই থাকবে না।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইংরেজিতে পড়া ও/বা পরীক্ষা দেওয়া ছেলেমেয়েদের কতো শতাংশ বিদেশে যায় বা যাবে কাজ নিয়ে বা পড়তে? আর কতো শতাংশকে ফিরে যেতে হবে আমাদের সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে অর্থোপার্জনে? উত্তর সবার জানা। তাহলে কেন, কী উদ্দেশ্যে, কী মাথায় রেখে আমাদের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে পড়ানোর চেষ্টা করছেন বছরের পর বছর ধরে? উদ্দেশ্যটা আমি বুঝি। আপনি কি বুঝতে পারেন? ফেসবুক থেকে
আরও সংবাদ
চ্যাম্পিয়ন ভারত : একটা ছোট মুহূর্ত কতো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে
‘ওই ক্যাচ হয়নি, সুরিয়াকুমারকে আবার ক্যাচ ধরতে হবে’!
কতো দেশ, কতোবার কাপ জিতলো, আমাদের ঘরে আর কাপ এলো না!
সংগীতাচার্য বড়ে গোলাম আলি খান, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও আমি
ইন্ডিয়ান বুদ্ধিজীবী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও দেশের বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট
মতিউর প্রতিদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮৩ ব্যাচের বন্ধুদের গ্রুপে সৎ জীবন যাপনের উপদেশ দিতেন!
চ্যাম্পিয়ন ভারত : একটা ছোট মুহূর্ত কতো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে
‘ওই ক্যাচ হয়নি, সুরিয়াকুমারকে আবার ক্যাচ ধরতে হবে’!
কতো দেশ, কতোবার কাপ জিতলো, আমাদের ঘরে আর কাপ এলো না!
সংগীতাচার্য বড়ে গোলাম আলি খান, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও আমি
ইন্ডিয়ান বুদ্ধিজীবী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও দেশের বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট